গণতন্ত্র ও আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থা

গণতন্ত্র ও আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থা : কিছু মৌলিক আলোচনা

নির্বাচন উপলক্ষে কিছুদিন ধরে ফেসবুকে গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থার অসারতা নিয়ে বেশ কিছু আলোচনা দেখেছি। অনেকে গণতন্ত্রকে কুফুরি হিসেবেও দেখানোর চেষ্টা করেছেন। এর মাধ্যমে তরুণদের কারো কারো মধ্যে বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থায় অংশগ্রহণ ও সংস্কার সম্ভব নয়, এমন ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে। এমন ধারণা তরুণদের মধ্যে হতাশা ও নেতিবাচকতাই বাড়াচ্ছে। বলে রাখা ভাল, হতাশার চর্চা অনেক সময় আশাবাদের শিরোনামেও হতে পারে, পরিণতির বিচারে। তবে ইসলামের খণ্ডিত ব্যাখ্যার মাধ্যমে নেতিবাচকতা সৃষ্টি হলে তার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবেই বিশৃঙ্খলা ঘটে। এসব কারণে তালিবে ইলম হিসেবে এ বিষয়ে কিছু মন্তব্য করতে চাই।

খেলাফত ও আধুনিক জাতিরাষ্ট্র :
খেলাফতের মূল মর্ম হচ্ছে, নবীজির ইন্তেকালের পর নবীজির দ্বীনের আলোকে মুসলিম উম্মাহর কেন্দ্রীয় পরিচালনা।খেলাফতের মধ্যে যথাযথভাবে ইসলামী আহকাম ও মূল্যবোধ পালন এবং ক্ষমতা চর্চা জরুরী। ইসলামী সভ্যতায় খেলাফত-ব্যবস্থাই গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা ছিল, এতে কারো সন্দেহ থাকার কথা নয়। এ কারণেই গত শতকে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাফতের পতনের পর মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক প্রতিবাদ ও পর্যালোচনার সৃষ্টি হয়।
কিন্তু, লক্ষ্য করে দেখুন, খেলাফতের পতনের আগে ও পরে মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ জায়গা বিদেশীদের দখলে ছিল। একসময় স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু হয় এবং স্বাধীনতা আসে। তবে খেলাফতের কাঠামোতে স্বাধীনতা আসেনি। স্বাধীনতা এসেছে জাতিবাদী রাষ্ট্রের কাঠামোর মধ্য দিয়ে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট ভূমি, জাতি বা সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে দেশগুলোর কাঠামো গড়ে উঠে এবং আলেমদের মধ্যে খেলাফত বহালের চেষ্টা ও আন্তরিকতা থাকলেও সেটা সম্ভব হয়নি।

ইসলামি রাষ্ট্র ও মুসলিম রাষ্ট্র :
তবে এই সম্ভব না হবার কারণে আলেমরা স্বাধীনতাকে অস্বীকার করেননি। বরং অস্থায়ী হিসেবে একে গ্রহণ করে নিয়েছেন। এর অংশ হিসেবেই মুসলিম লীগের হাত ধরে পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করে। এবং পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে দুইজন আলেম পতাকা উত্তোলন করেন। আধুনিক মুসলিম রাষ্ট্রের কার্যকারিতা নিয়ে অনেক প্রশ্ন থাকলেও এর উপকারিতা কেউ অস্বীকার করেন বলে মনে হয় না। এখান থেকেই ইসলামী রাষ্ট্র পরিভাষার জন্ম হয়।

খেলাফত-বিকল্প অগত্যা অনুমোদিত শাসনকাঠামো :
বর্তমান আধুনিক জাতিরাষ্ট্রব্যবস্থা সুসংহত হয়ে গেছে। মুসলিম রাষ্ট্রগুলো প্রাশাসনিক এবং অবকাঠামোগতভাবে পরস্পর সংযুক্ত নয়, আবার এগুলো খেলাফতের সমস্ত শর্ত পূরণ করছে না। ফলে এককাট্টা খেলাফতব্যবস্থা কায়েম আরো জটিল হয়ে দেখা দিয়েছে। এই অপরাগতার পরিপ্রেক্ষিতে এককাট্টা খেলাফতব্যবস্থার স্বপ্ন বুকে পুষে রেখে আমাদেরকে প্রশ্ন করতে হচ্ছে- ইসলামী ইতিহাসে খেলাফত ছাড়া ভিন্ন কোন রাষ্ট্রকাঠামো ‘অগত্যা অনুমোদিত কিনা এবং কখনো ছিল কিনা? অগত্যা অনুমোদিত রাষ্ট্র ছিল। দাওলায়ে মুতাগাল্লেবাহ ও দাওলাতুল মিনতাকাহ নামে অর্থাৎ জোরপূর্বক দখলকৃত রাষ্ট্র ও আঞ্চলিক রাষ্ট্র, এই দুই রকমের রাষ্ট্রের অস্তিত্ব খোদ ফুকাহায়ে কেরামের আলোচনায় পাওয়া যায়।

দাওলা মুতাগাললিবাহ ও আঞ্চলিক রাষ্ট্র ও শরীয়া’র দৃষ্টিভঙ্গি :
খেলাফতের যথাযথ নিয়ম না মেনে ক্ষমতা দখল করে রাখলে একে দাওলায়ে মুতাগাল্লিবাহ বা জোরপূর্বক দখলকৃত রাষ্ট্র বলে। একে অনেক সময় মুলক বা রাজত্ব নামেও ডাকা হয়। আবার যেহেতু এতে যথাযথ নিয়ম না পাওয়া গেলেও মৌলিকভাবে খেলাফতের ভিত্তি পাওয়া যায়, এ কারণে একে অপূর্ণাঙ্গ খেলাফতও বলা হয়। এর বাইরে আঞ্চলিক রাষ্ট্রের কথাও পাওয়া যায়। ( দেখুন, আহকামুস সুলতানিয়াহ আল মাওয়ারেদী ২৯, আল গিয়াছী ইমাম জুয়াইনি ৩২৯-৯২ ) বর্তমান বিশ্ববাস্তবতায় আমাদেরকে এই দিকটি নিয়ে ভাবতে হবে।
আমরা এখানে ইসলামী সভ্যতার দুই আলোচিত ও গ্রহণযোগ্য রাজনীতি চিন্তা বিষয়ক বইয়ের দোহাই দিয়েছি। মূলত কোরআন ও হাদিসে শাসন বিষয়ক যেসব আলোচনা এসেছে, সেখানে যথাযথ নিয়ম মেনে খেলাফত কায়েমের কথা আছে, আবার অনেক নুসুসের মধ্যে প্রয়োজনে ফাসেক ও জোরপূর্বক ক্ষমতাদখলকারীর আনুগত্য করতেও বলা হয়েছে। এর থেকেই বুঝা যায়, পূর্ণাঙ্গ খেলাফত ইসলামি শাসনব্যবস্থার রুলমডেল হলেও একমাত্র শাসনব্যবস্থা হিসেবে আখ্যা দেওয়া যায় না এই অর্থে যে, ভিন্ন কোন কাঠামোকে মুহুর্তমাত্র বরদাশত করা হবে না। বরং ইসলামী সভ্যতার ইতিহাসেও পূর্ণাঙ্গ খেলাফতের অস্তিত্ব খুব বেশী দিন ছিল না। তেরশ বছরের খেলাফতের অধিকাংশ সময় পূর্ণাঙ্গ খেলাফতের অস্তিত্ব ছিল না।অপূর্ণাঙ্গ খেলাফতের নিয়ন্ত্রণের বাইরে অনেক ছোট ছোট আঞ্চলিক রাষ্ট্রও গড়ে উঠেছিল। সেসব আঞ্চলিক রাষ্ট্রে অনেক আলেম ছিলেন, তবে তারা কেউ সেগুলোকে ইসলাম বহির্ভূত বলেননি।

ইমাম জুয়াইনি রাহঃ লেখেছেন, অনেক সময় যোগ্য খলিফা পাওয়া যাবে না এবং না পাওয়া গেলে সেক্ষেত্রে কি করা যাবে, সে বিষয়েও আলোচনা করছেন, যা ‘শাসকহীনতার তত্ত্ব’ নামে পরিচিত। তিনি দেখিয়েছেন, একমাত্র খেলাফাহ ছাড়া অন্য কোন কাঠামোর শাসনব্যবস্থা বৈধ নয়- কোরআনে-সুনানে এমন কোন আলোচনা নেই। তাহলে কেউ যদি ইসলামী অনুযায়ী শাসন চালানোর অঙ্গীকার করে ও ক্ষমতাবান হয়, তাহলে তার মাধ্যমেও শাসনব্যবস্থার কিছু উপকার পাওয়া সম্ভব। ইমাম নববী রাহঃ এই মতের সমর্থন করেছেন। ( রাওজাতুত তালিবীন খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৩-৪৬ ) ইবনে তাইমিয়া রাহঃ এর সাথে যোগ করে বলেছেন, ইসলামের মৌলিক শর্ত নেতা নির্ধারণ করা। নবীজি বলেছেন, তোমরা তিনজন থাকলে একজনকে নেতা বানাও। তিনি তার ফতোয়ায় বলেছেন, অক্ষমতা থাকলে খেলাফত মুলকে রুপান্তরিত করা যেতে পারে। খেলাফত ও মুলকের মধ্যে মিশ্রনের কথাও তিনি বলেছেন। ( মজমুয়া ফতোয়া, খণ্ড ৩৫, পৃষ্ঠা ২৫-২৭ ) অর্থাৎ যদিও খেলাফতই ইসলামের মূল শাসন ব্যবস্থা, তবে প্রয়োজনে এর বিকল্পের কথাও অস্থায়ীভাবে ভাবা যেতে পারে।

আগে আলেম ও ইসলামপন্থীরা এককাট্টা খেলাফত কায়েম করতে চাইতেন, এখন অনেকে ইসলামী রাষ্ট্র বা আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্র বানাতে চান। অর্থাৎ তারা খেলাফতকে অস্বীকার করেন না, তার পুনরুদ্ধারের চেষ্টা জরুরী মনে করেন। তবে যেহেতু প্রয়োজনে ভিন্ন কাঠামোর রাষ্ট্র কায়েমের সুযোগ আছে, তাই উপস্থিত পরিস্থিতির আলোকে সে চেষ্টা করাই উচিত বলে মনে করেন।

বাংলাদেশে খিলাফাহ-সম্ভাবনা :
রাষ্ট্রিয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক সামর্থ্য ও সমর্থনের বিবেচনায় নিকট ভবিষ্যতেই বাংলাদেশে বিশ্বমুসলিমের কেন্দ্রিয় খিলাফাহ কায়েম করা সম্ভব না, অপরদিকে এ দেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থানে মুসলিম বিশ্বের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব গ্রহণ করাও প্রায় অসম্ভব। ভাষা, সংস্কৃতি ও আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতার ফলে মুসলিম বিশ্বের ভরকেন্দ্র আরব-আফ্রিকানদের ওপর নেতৃত্ব ও প্রভাব বিস্তার করা খুব কঠিন। বরং নিজেরা রাষ্ট্র গঠনের পর উপযুক্ত কোথাও থেকে খেলাফত প্রতিষ্ঠিত হলে তাদের সাথে সম্পর্কিত হবার সুযোগ তৈরি হবে। বাংলা অঞ্চলের সুলতানি আমলের শাসকরা এই কাজটাই করেছেন। পাশাপাশি এই অঞ্চলের জন্য বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ। ভারত, চীন, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনের অঞ্চলের মধ্যে বিস্তৃত জনগোষ্ঠী ও মুসলমানদের জন্য বাংলাদেশ আশার ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

বিকল্প শাসন কাঠামো :
তাহলে আমরা খেলাফত-অক্ষমতার পরিপ্রেক্ষিতে বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশে ‍দুটো সম্ভাবনা থাকে। এক হলো, ইসলামি শাসিত আধুনিক আঞ্চলিক রাষ্ট্র হওয়া। এটা একটা লম্বা জার্নি। এর জন্য প্রচেষ্টা জারি থাকতে পারে এবং এর আগ পর্যন্ত দাওলায়ে মুতাগাল্লিবাহ ও মিনতাকাহ পরিসরের মধ্যে মুসলিম রাষ্ট্র হয়ে উঠতে পারে এবং আঞ্চলিকভাবে এর গুরুত্ব মোটেই কম নয়। হুকুমের দিক থেকে তারা কাছাকাছি। ইসলাম শাসিত আধুনিক আঞ্চলিক রাষ্ট্র হওয়ার পরিস্থিতিতে গেলে আমাদের গণতন্ত্রের প্রয়োজন পড়বে না। কিন্তু, প্রশ্ন হচ্ছে, দাওলা মুতাগাল্লিবাহ পরিসরে আমাদের শাসনব্যবস্থা কেমন হবে, গণতন্ত্র হতে পারে কিনা? এ আলোচনায় প্রথমেই যে প্রশ্ন আসে–গণতন্ত্র কি কুফুরি?

প্রথমত, ইসলামে কুফুরির কিছু নির্দিষ্ট কারণ আছে, কোন কিছু সেই কারণের মধ্যে পড়লে তাকে কুফুরি হিসেবে বলা যাবে। অর্থাৎ গণতন্ত্রকে কুফুরি না বলে যে কারণে গণতন্ত্র কুফুরি, সেটা বলা উচিত। কেননা গণতন্ত্রের একেকজনের কাছে একেক রকম ব্যাখ্যা। ফলে যে কারণে কুফুরি বলা হচ্ছে, সেই কারণেই একে কুফুর হিসেবে দেখানো উচিত। নয়তো ব্যাখ্যায় ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও সবার ক্ষেত্রে এক হুকুম প্রয়োগ করা জরুরী হয়ে উঠে এবং তা ভুল।
গণতন্ত্র সাধারণত তিন অর্থে ব্যবহার করা যায়।

ক) জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে বা বিশেষ প্রক্রিয়ায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচন, পরবর্তীতে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার শর্তে যা ইচ্ছা, আইন প্রণয়ন করতে পারে।
খ ) জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচন। জনপ্রতিনিধিগণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার শর্তে যা ইচ্ছা আইন করতে পারবেন, তবে শরীয়াহ বিরোধী কিছু করতে পারবেন না।
গ) মানুষের ব্যক্তিগতভাবে যা করা বা হওয়ার ইচ্ছা, সেটা কারো ক্ষতি না করলে বাঁধা না দেওয়া।

এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমাদের আলোচনায় প্রথম ও দ্বিতীয় অর্থ প্রাসঙ্গিক।
প্রথম অর্থে গণতন্ত্র কুফুরি হতে পারে। কেননা হাকেমিয়াহ তথা ইসলামী আইনকেই আইন হিসেবে গ্রহণ করতে হবে, এটা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে প্রাসঙ্গিক একটা নোট মনে রাখা যেতে পারে, এটি কুফুরি হলেও জনপ্রতিনিধিরা কি যা খুশী সেই আইন করতে পারেন? আসলে পারেন না। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় এটি সম্ভব নয়। কখনো সংবিধান বিরোধী আইন করলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে উচ্চ আদালত উক্ত আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করতে পারেন। ফলে গণতন্ত্র মানেই যেমন ইচ্ছা আইন প্রণয়ন, এটা বলা কঠিন।

দ্বিতীয় অর্থে গণতন্ত্র কুফুরি বলা অসম্ভব। একে কেবল পদ্ধীতগত অসঙ্গতি বলা যেতে পারে। দেওবন্দের বর্তমান শাইখুল হাদিস সাইদ আহমদ পালনপুরি গণতন্ত্রের আলোচনায় বলেছেন, গণতন্ত্র তাগাল্লুব বা জোর পূর্বক ক্ষমতা দখলের একটা ফর্ম। তবে তাগাল্লুব কোন আদর্শ নয়। ফলে গণতন্ত্রও কোন আদর্শিক তরিকা নয়। দাওলায়ে মুতাগাল্লিবাহর মধ্যে প্রকৃতভাবে ইসলাম কায়েম না থাকায় আদর্শ শাসনব্যবস্থা কায়েম করা কঠিন হয়ে যায়। সুতরাং, গণতন্ত্র কোন আদর্শ তরিকা নয়। এটি সংখ্যাকে বিচার করে। অথচ প্রকৃত আদর্শিক রাষ্ট্র নিছক সংখ্যার ভিত্তিতে গড়ে উঠতে পারে না, গড়ে উঠতে হবে গুণের প্রাধান্যের ভিত্তিতে। কিন্তু, আগেই যেমন বলেছি ফাসেক শাসক হওয়া অনুচিত হলেও ইসলামী ইতিহাসে ফাসেক শাসকের উদাহারণ খুব কম নয়। সুতরাং, এই অসঙ্গত পদ্ধতির ভেতর দিয়েও যদি কোন শাসক প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে শুধুমাত্র পদ্ধতিগত অসঙ্গতির কারণে একে কুফুরি শাসন বলা যায় না। এমনকি ফাসেক শাসকের বিবেচনা থেকে একে মেনে নেওয়ার অবকাশ আছে।
পাশাপাশি বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলো সবসময় ইসলাম বিরোধী আইন না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে। কখনো স্পষ্ট ইসলামী বিরোধী আইন করতে চাইলেও প্রতিবাদের মুখে থেমে যেতে বাধ্য হয়েছে। অর্থাৎ যেহেতু গণতন্ত্র যথার্থ বিকল্প না হওয়া সত্ত্বেও ব্যাপকভাবে প্রচলিত হয়ে গেছে এবং গণতন্ত্র মাত্রই কুফুরি, এটা বলারও সুযোগ নেই, তাই সুযোগমত এর বিদ্যমান অসঙ্গতিগুলো সংস্কারের নিয়ত রেখে এবং চলমান পরিস্থিতিতে সেগুলোতে নিজেরা লিপ্ত না হওয়ার শর্তে অস্থায়ীভাবে গণতন্ত্রে অংশগ্রহণ করা যেতে পারে। বরং পরিবেশ-পরিস্থিতির বিচারে অনেক ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ জরুরী হয়ে উঠে।

* ইফতিখার জামিল

Leave a Comment

Your email address will not be published.